

........................
-এত্তগুলো হলুদ ফুল ফুটলো কবে?!
তুমি অবাক বিষ্ময়ে অনেকটা চিৎকার করে উঠো। দৌঁড়ে আসি।
-ওওও, ওগুলো? প্রতিদিনই ফুটে। সকালের দিকে ফুটে আর সন্ধ্যায় মিলিয়ে যায়। রোদ উঠলে পুরো বারন্দাটা একদম হলুদ হয়ে থাকে।
তুমি বিশ্বাসই করতে চাওনা।
-যাহ! আমি কখনো দেখলাম না যে?
আমি হাসি। ও প্রশ্নের কোনো উত্তর হয়না বলেই হাসিটাকে একধরনের উত্তর বানানো। তুমি অবাক হয়ে হলুদ ফুলগুলো স্পর্শ করে করে দেখলে। আমি আমার দু’হাতের বেলুনের নীচে রুটির আকৃতিটাকে গোল বানানোর প্রানান্ত চেষ্টা করি। একসময় আম্মু গোল গোল করে রুটি বানাতো। ছোট ছোট সেই আটার রুটি ছ্যাৎ ছ্যাৎ করে ভাজা হত গরম তাওয়ায়। আব্বু আরাম করে পত্রিকা পড়তে পড়তে খেতেন। অথবা তারো আগে নানুর হাতে নিজ বাড়িতে তোলা আসল ঘিয়ে ভাজা গরম গরম পরটা খেতেন জমিদার বংশের শেষ প্রদীপ নানা। নানাবাড়ির সামনের সেই শানদার কাঠের চেয়ারে বসে উঠানে খেটে খাওয়া কামলাদের খোঁজখবর নিতে নিতে নানা শুনতে পেতেন সেই গরম পরটা ভাজার শিইইইইইত আওয়াজ। আর বাতাসে ভাসতো কাঁচা ঘিয়ের ঘ্রান।
বারান্দা থেকে তোমার গলা ভেসে আসে, ‘হলুদ ফুলগুলো অদ্ভূদ সুন্দর!’
আমি রুটিতে মন দিতে চেষ্টা করি। নানু আর আম্মু’দের সময় পেরিয়ে আমাতে এসে রুটিরা কেন যেন তাদের আকৃতি হারিয়ে ফেলেছে। যতবার রুটি বানাতে যাই, গোলাকৃতি ছেড়ে ময়দার দলাটা তত অষ্টভূজ আকৃতি নিতে থাকে। অথবা অনেক সময় ভূজ-হীন, আকৃতিবিহীন।
তুমি হলুদ ফুলের উচ্ছাস কাটিয়ে তখন ক্ষুধার্ত। আমার রুটিরা তখনো আকৃতি পায়নি। বারান্দা থেকে তাই একটা হলুদ ফুল ছিঁড়ে এনে ময়দার দলাটাতে সুন্দর করে গেঁথে দেই। দেখতে অসাধারন লাগে। তোমার ভীষন অবাক চোখের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে বলি- ‘ফুলগুলো আসলেই বেশ সুন্দর’।


